সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে আনসার-ভিডিপির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা / ১০১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬


পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

জাতীয় সম্পদ রক্ষা,চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যরা।

শুক্রবার (২৯ মে) আনসার সদর দফতরের উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

তিনি জানান, দেশের চামড়া শিল্পের অন্যতম প্রধান মৌসুম হচ্ছে ঈদুল আজহা। প্রতিবছর সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ এ সময় সংগ্রহ করা হয়। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

তবে সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন ২৯টি জেলায় ৪ হাজার ১৫৩ জন ভিডিপি সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রশিক্ষণে চামড়া ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি, পরিষ্কারকরণ, লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।

ঈদের দিন থেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় কোরবানির স্থানে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ বিষয়ে পরামর্শ দেন। চামড়ায় যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও তারা ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও জানান, একটি মাঝারি বা বড় গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল বা ভেড়ার চামড়ায় ২ থেকে ২.৫ কেজি লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চামড়া ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ, মাংস ও চর্বি পরিষ্কার এবং দ্রুত ট্যানারিতে পাঠানোর বিষয়েও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন ভিডিপি সদস্যরা।

শুধু সংরক্ষণ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ব্যবস্থা সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তারা। বিশেষ করে এতিমখানা ও বিভিন্ন স্টোরিং পয়েন্টে চামড়া সংরক্ষণে যথাযথ লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গেছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশের ৬০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যের এই বিশাল নেটওয়ার্ককে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে চামড়া শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের মতে, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং দেশের চামড়া শিল্প আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর