বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের পরিধি আরও বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ লক্ষ্যে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি নতুন নতুন টুর্নামেন্ট এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির পর চীনে ক্রিকেটের প্রতি তৈরি হওয়া আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায় আইসিসি।
সংস্থাটির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জানিয়েছেন, চীনে একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি শিগগিরই একটি ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনেও তারা দেশটির জাতীয় সংস্থাকে সহায়তা করবে। পিটিআই-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে গুপ্ত বলেন, ক্রিকেটকে আরও সহজলভ্য করা এবং নারী ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোও তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। বিশাল জনসংখ্যার দেশ চীন যদি ক্রিকেটের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে। যেখানে ভারতের মতো ক্রিকেট-পাগল দেশের সাথে জনসংখ্যার তুলনা চলে। তবে এর সম্ভাবনা হবে অসীম।
গত জুলাই মাসে দায়িত্ব নেওয়া আইসিসির এই কর্মকর্তা জানান, দুবাইয়ের ‘আইসিসি একাডেমি’র আদলে একটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইসিসি এরইমধ্যে তাদের সদস্য সংস্থা ‘চাইনিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন’ (সিসিএ)-এর সাথে কাজ করছে। গুপ্ত বলেন, খেলোয়াড়দের দ্রুত উন্নয়ন এবং উচ্চ-মানের পারফরম্যান্স কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইসিসি একাডেমির আদলে একটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্স গড়ে তুলতে সিসিএ আইসিসির সহায়তা চেয়ে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আইসিসির কৌশলগত সহায়তা চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ স্পোর্ট’ (জিএএসসি)-কে এই খেলার উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করতে পারে। ক্রিকেট ভক্তদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করলেও, ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে এই খেলার প্রত্যাবর্তন সিসিএ-র মতো জাতীয় সংস্থাগুলোকে মূলধারার ক্রীড়া আসরে যেমন চীনের ক্ষেত্রে ‘ন্যাশনাল গেমস’-এ ক্রিকেটকে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
গুপ্ত বলেন, লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক -এ ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন সেই প্রেক্ষাপটকেই বদলে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে এমন সব বাজারে এই খেলাটিকে দেখা হতো যারা এতদিন একে উপেক্ষা করেছে বা গুরুত্ব দেয়নি। তিনি যুক্তি দেন, অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া ব্যবস্থায় ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়ছে এবং এটি সরকারের বাড়তি মনোযোগ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলোয়াড় তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে। চীনের মতো বাজারগুলোতে আমরা এরইমধ্যে এই পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করছি।
চীনের ২২টি প্রদেশের মধ্যে নয়টিতে ক্রিকেটের উপস্থিতি রয়েছে এবং ন্যাশনাল গেমসে খেলাটি অন্তর্ভুক্ত হলে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। এশিয়ান গেমসে নিয়মিতভাবে ক্রিকেট খেলা হওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এশিয়ান গেমস চীনে ক্রিকেটকে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি দিয়েছে বিশেষ করে ২০২২ সালের হ্যাংজু গেমসের পর এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কাঠামোর সাথে ক্রিকেটের আরও গভীর সংযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
চীনের ‘ন্যাশনাল গেমস’-এ ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এই অগ্রগতির গতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। তিনি বলেন, এভাবেই কোনো খেলাকে ব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত করা যায়, বিভিন্ন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে, প্রদেশগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে, কোচ ও অবকাঠামো গড়ে তুলে, খেলাটিকে আরও দৃশ্যমান করে এবং শেষ পর্যন্ত আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে খেলার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে।
দেশটিতে খেলাটির প্রসারে নারী ক্রিকেটকে জোরালোভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে; বিশেষ করে সিসিএ-এর নীতি অনুযায়ী তাদের সব কর্মসূচিতে ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাজার এবং অংশগ্রহণকারী দেশ উভয় দিক থেকেই ক্রিকেটের জন্য চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এর বিশাল সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
সম্প্রতি চীনে ১৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্রিকেট ভেন্যু চালু করা হয়েছে এবং এখন আইসিসি, সিসিএ-এর সহায়তায় সেখানে একটি ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী। গুপ্তা বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আইসিসি-র ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে চাইনিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিসিএ) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে তা সরকারি মহলের কাছে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে। একদিকে চীনে খেলাটির প্রসারে আইসিসি-র দৃঢ় সংকল্পের কথা, অন্যদিকে খেলাটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সিসিএ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলে তারা কী ধরনের সহায়তা পেতে পারে, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।