জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্থানীয় মাতব্বরদের নির্দেশে বাবার জমির উপর বিগত ১১ যাবত বসবাসকারী দরিদ্র এক পরিবারে বসতবাড়ী ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একই সাথে ঘরের আসবাবপত্রসহ নগদ অর্থও লুট করে নিয়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। শনিবার সকালে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, সদর উপজেলার শিয়ালকোল গ্রামের রমজান আলী প্রায় ১১ বছর যাবত বাবার সম্পত্তির উপর ঘর তুলে বসবাস করছে। একই সম্পত্তি একই গ্রামের শাহাদত হোসেন মাস্টার ক্রয়সুত্রের মালিক দেখিয়ে দখল নেয়ার করে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি স্থানীয় মাতব্বর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও বিএনপি নেতা আনিস আহমেদ এক তরফাভাবে একটি সালিশ বৈঠক করে জমি দখলের জন্য শাহাদতকে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে শাহাদত শনিবার সকালে শাহাদত মস্টারের নেতৃত্বে গজনবীর ছেলে বাচ্চু, শফি, আফজালের ছেলে আব্দুল হক বুড়া, বুড়ার ছেলে খুশি, ফিরোজ রহমান ঘোতার ছেলে রানা ও শফি, বেলাত হোসেনের ছেলে ফিরোজ রহমান ঘোতাসহ ১৫-২০জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বসতবাড়ী হামলা চালিয়ে বাড়ীর ঘর ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দেয়। আসবাবপত্র ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে নগত অর্থ লুটপাট করে নেয়।

ভুক্তভোগী রমজান আলী জানান, আমি পৈত্রিকসুত্রে পাওয়া ১৮ ডেসিমাল জমির উপর ঘর নির্মাণ করে ১১ বছর যাবত বসবাস করছি। শাহাদত মাস্টার আমার সৎ ভাই মমিনের কাছ থেকে ২৫ ডেসিমাল ক্রয় করে। কিন্তু সে আমার সম্পত্তিসহ কৌশলে ৪৩ ডেসিমাল খারিজ করে নেয়। এ নিয়ে আদালতে আমি ডিগ্রি পেয়েছি। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তারা পুনরায় খারিজ করে নেয়। এ নিয়ে আমি পুনরায় আদালতে মামলা দায়ের করেছি। মামলা শুনানী শেষে আগামী ৭ এপ্রিল রায়ের দিন ধার্য্য রয়েছে। এ অবস্থায় সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও বিএনপি নেতা আনিস মিমাংসা বৈঠক বসে। বৈঠকে কথাবার্তা শুনে রায় দেয়ার কথা। কিন্তু কোন রায় দেয়া হয় নাই। এ অবস্থায় শনিবার সকালে শাহাদত হোসেন মাষ্টার সন্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে বসতভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দেয়। আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলে। নগদ টাকা লুট করে। আমার স্ত্রীকে মারপিট করে। সে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে আমরা খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছি। রাতে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলেও এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় নাই।

বিচারক আব্দুল মান্নান জানান, আমরা একটা রায় দিয়েছে। তবে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ফেলার কোন নির্দেশনা দেয়া হয় নাই। ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ফেলা ঠিক হয়নি। তবে মিমাংসা বৈঠকের আহবায়ক আনিসের মোবাইলে কল দিলেও সে রিসিভ করেনি। আর সন্ত্রাসী ফরহাদ হোসেন মাস্টার কল দিলেও সে রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, লিখিত এজাহার পেয়েছি। তদন্তপুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।