কুষ্টিয়ার খোকসায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চরম গাফিলতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতায় গোপগ্রাম থেকে ভবানীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ বিগত আড়াই বছর ধরে থমকে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই উধাও হয়ে গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল খানাখন্দ। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, যা চার ইউনিয়নের লাখো মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম জিসি থেকে ভবানীগঞ্জ বাজার আরএইচডি সড়ক মেরামতের জন্য ৪ হাজার ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের কাজটি ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার ৫১ টাকা চুক্তিমূল্যে পায় ‘অহনা ট্রেডার্স’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের মার্চ মাসেই পুরো কাজ শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন। দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চুক্তিপত্রের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এলজিইডির কুষ্টিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ দিনের নোটিশ প্রদান করে কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল করেন। বর্তমানে নতুন করে ২ কোটি ২০ লাখ ৯৫ হাজার ৫১ টাকা প্রাক্কলন ধরে পুনঃদরপত্রের (রি-টেন্ডার) জন্য এলজিইডি সদর দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সংস্কারের নামে সড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে আগে থেকে ভালো থাকা সড়ক খুঁড়ে দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল একপ্রকার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম নাজেহাল হতে হচ্ছে স্বজনদের। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, ভালো রাস্তা খুঁড়ে আংশিক কাজ দেখিয়ে ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৮ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। তবে এই টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুলে নিয়েছে নাকি সরকারের কোষাগারে ফেরত গেছে, সে সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য খোকসা এলজিইডি কার্যালয়ে নেই। একই সড়কে বারবার সংস্কার ও প্রাক্কলন বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব খাতের অর্থ অপচয়ের পেছনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অর্থ লুটপাটের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অহনা ট্রেডার্সের ঠিকাদারের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা খোকসা উপজেলা প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, “আগের ঠিকাদার টাকা উত্তোলন করেছেন কিনা সে বিষয়ে আমার কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে জনভোগান্তি নিরসনে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের জন্য নতুন ফাইল এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হবে।”