ফুটবল মাঠে যেমন অতুলনীয়, মাঠের বাইরেও তেমনি আলাদা এক ব্যক্তিত্ব লিওনেল মেসি। খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে আছে সর্বত্র। আটবারের ব্যালন ডিঅর জয়ী এই কিংবদন্তি ইউরোপ অধ্যায় শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে মিশেছেন মেসি। তবুও ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই স্প্যানিশ ভাষাকেই বেছে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে পরিচিত ইংরেজি জানলেও জনসমক্ষে এই ভাষা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে বার্সেলোনায় বেড়ে ওঠা মেসি চাইলে তো সহজেই ইংরেজিতে দক্ষ হতে পারতেন। তবে কেন তিনি এই ভাষা ব্যবহারে অনীহা দেখান?
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘লুজু টিভ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নের উত্তর দেন মেসি। সেখানে তিনি জানান, ইংরেজিতে কথা বলার সময় তার অস্বস্তি লাগে। মেসির ভাষায়, ‘আমি ইংরেজিতে কথা বলতে পছন্দ করি না। এতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। তাই সবকিছু স্প্যানিশেই করতে ভালো লাগে। তবে ইংরেজিতে আমি বলতে পারি এবং অন্যরা বুঝতেও পারে।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি আগ্রহের অভাব থেকে নয়। ব্যক্তিগত পরিসরে তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে জনসমক্ষে ভাষা বদলাতে তিনি চান না।
আলোচনায় উঠে আসে বার্সেলোনায় খেলার সময় নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে করা এক চাইনিজ নববর্ষের শুভেচ্ছা ভিডিওর কথাও। সেখানে নেইমার ও সুয়ারেজ চীনা ভাষায় কথা বললেও মেসি স্প্যানিশেই কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে মেসি জানান, ক্লাবের সঙ্গে তার আগেই সমঝোতা ছিল বিনয়ের কারণে তিনি ভাষা পরিবর্তন করবেন না।
ইউরোপ অধ্যায় পেরিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খেললেও মেসির এই সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ভাষার ক্ষেত্রেও নিজের স্বভাব ও স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেওয়াই যেন তার ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন।