পেনাল্টি হলে গোলরক্ষকের প্রথম কাজ থাকে শট ঠেকানোর চেষ্টা করা। তবে বলিভিয়ার স্থানীয় ফুটবলে ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঘটনা। পেনাল্টি নেওয়ার মুহূর্তে গোলপোস্টের সামনে না থেকে এক পাশে সরে দাঁড়ান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক গুস্তাভো তেসোনত্তি। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই বল জালে পাঠান প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার।
তেসোনত্তি বলিভিয়ার ক্লাব উইলস্টারমানের গোলরক্ষক। সম্প্রতি ইন্দিপেন্দিয়েন্তে দি কোচাকাম্বার বিপক্ষে ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। ম্যাচে ইন্দিপেন্দিয়েন্তেকে পেনাল্টি দেন রেফারি কার্লোস আর্তেয়াগা। পেনাল্টি নেওয়ার সময় তেসোনত্তি গোলপোস্টের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শট ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করেননি। সহজেই গোল করেন ইন্দিপেন্দিয়েন্তের ফরোয়ার্ড এরনেস্তো আদিরি।
পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রতিবাদের কারণে ম্যাচ প্রায় ২০ মিনিট বন্ধও ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই গোলটি ম্যাচের ফলাফলেও প্রভাব ফেলে। ইন্দিপেন্দিয়েন্তে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় উইলস্টারমানকে।
ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক তেসোনত্তি জানান, ইচ্ছা করেই তিনি পেনাল্টি ঠেকানোর চেষ্টা করেননি। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে সতীর্থদের পাশাপাশি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও আলোচনা হয়েছিল। খেলোয়াড়সুলভ আচরণের অংশ হিসেবেই পেনাল্টিতে বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এক সাক্ষাৎকারে তেসোনত্তি বলেন, তারা প্রমোশনের একটি জায়গার জন্য লড়াই করছিলেন। তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, সেটিকে অন্যায্য মনে হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ম্যাচটিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরও ছিল না। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেসোনত্তি। তার মতে, ভিএআর থাকলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
ঘটনার পর রেফারি কার্লোস আর্তেয়াগার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে বলিভিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের জাতীয় রেফারি কমিশন। তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ফলে ম্যাচের ৩-২ ফলের পাশাপাশি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, তেসোনত্তির অস্বাভাবিক অবস্থান এবং রেফারির সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে বলিভিয়ার ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইন্দিপেন্দিয়েন্তে ও উইলস্টারমানের ম্যাচটি।